St. Martin's Island
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের বুকে একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ। বালিয়াড়ি প্রবাল-কেয়া গাছ কাঠবাদাম গাছে ভরা এই দ্বীপ। নারকেল জিঞ্জিরা নামটি ছিল এর প্রচিীন নাম। বাংলাদেশে সর্ব দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।
দ্বীপটি উত্তর দক্ষিনে লম্বা এবং অনেকটা ডাম্বেল আকৃতির। এর প্রধান দুটি অংশ হলো উত্তর পাড়া ও দক্ষিন পাড়া। মাঝখানে সংকীর্ন অংশটি হলো গলাচিপা। ভু-তাত্ত্বিক বিবেচনায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি পল্লল গঠিত মহাদেশীয় একটি দ্বীপ। মূলতঃ এই দ্বীপটি বিভিন্ন ধরনের শিলার উপর বহুদিন ধরে বালি,সামুদ্রিক সামুক,ঝিনুকের চুর্ণ জমা হয়ে গঠিত হয়েছে। দ্বীপটির উত্তর পূর্বাংশ ব্যতিত সম্পুর্ণ তীরবর্তী আঞ্চল পাথরময়। এর সর্ব দক্ষিনে রয়েছে ছেড়াঁদিয়া দ্বীপ যা জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনটি ছোট দ্বীপ এ রুপান্তরিত হয়।
উনিশ শতকের প্রথম দিকে এই দ্বীপে বসতি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এই দ্বিপে স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ছয় হাজার। দ্বিপির বেশির ভাগ মানুয়ের পেশা হচ্ছে মাছ শিকার ও মাছ শুকানো। কিছু মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষি কাজের সাথে জড়িত। প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু দ্বীপটিকে নিরাপদ আবাশস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এইদ্বীপে একশত তেপ্পান্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রবাল ও একশত সাতান্ন প্রজাতির জলজ গুপ্তজীব উদ্ভির রয়েছে। এই দ্বীপে নারিকেল গাছের মেলা, জীবন্ত প্রবাল, শৈবাল,সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিভন্ন প্রজাতির মাছ,কঁকড়া হাঙ্গর, সামুদ্রিক পাখি, আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, কৃষিপনালী, ছেড়াদ্বীপ, দারুচিনি দ্বীপ যা ভ্রমনপিপাসুদের আকৃষ্ট করবে। বেলা শেষে আসবে নিরব নিস্তবতা। সঙ্গি হবে সাগরের গর্জন। রাতের আকাশের তারার মেলা গাঁ ছুয়ে যাওয়া শীতল বাতাস, নারকেল গাছের পাতার মৃদু কাতর দ্বণী আর সমুদ্রের মৃছু গর্জন জোস্নার আলোয় আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের জগতে।



No comments:
Post a Comment